Economy
অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশন কোড, ২০২০
प्रविष्टि तिथि:
22 NOV 2025 11:02 AM
নয়াদিল্লি, ২২ নভেম্বর ২০২৫
অকুপেশনাল সেফটি বা পেশাগত নিরাপত্তা, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড, ২০২০ প্রণীত হয়েছে বিদ্যমান জটিল শ্রম আইনগুলির কাঠামোকে একীভূত ও সরলীকরণ করার জন্য। এটি ১৩-টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে প্রতিস্থাপন করে একটিমাত্র বিস্তৃত আইন হিসেবে কার্যকর করে, যার ফলে, বিভিন্ন শিল্প ও রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বৈচিত্র্য কমে এবং একরূপতা প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ উন্নত করা এবং ভারতে ব্যবসা পরিচালনার সরলতা ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বৃহত্তর শ্রম আইনের সংস্কারের অংশ হিসেবে এই কোডটি প্রণীত হয়েছে। একক রেজিস্ট্রেশন, সর্বভারতীয় লাইসেন্স, ইলেকট্রনিক ফাইলিং এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার অনুমোদন প্রক্রিয়ার মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুবর্তিতার সরলীকরণের পাশাপাশি, এটি প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস করে এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে, এই কোডটি শ্রমিকদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করে কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকীকরণ নিশ্চিত করে, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা মান উন্নত করে এবং উন্নততর কল্যাণ ব্যবস্থার প্রবর্তন করে। ফলে, কোডটি দুটি লক্ষ্যকে সমানভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে, শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একটি ব্যবসা–বান্ধব নিয়ন্ত্রক পরিবেশ সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে ত্বরান্বিত করা। এভাবে, ভারতের শ্রমবাজারকে আরও কার্যকর, ন্যায়সঙ্গত ও ভবিষ্যৎ–উপযোগী করে তোলে।
২. OSH কোডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত ১৩-টি আইন হল:
i. The Factories Act, 1948
ii. The Plantations Labour Act, 1951
iii. The Mines Act, 1952
iv. The Working Journalists and other Newspaper Employees (Conditions of Service and Miscellaneous Provisions) Act, 1955
v. The Working Journalists (Fixation of Rates of Wages) Act, 1958
vi. The Motor Transport Workers Act, 1961
vii. The Beedi and Cigar Workers (Conditions of Employment) Act, 1966
viii. The Contract Labour (Regulation and Abolition) Act, 1970
ix. The Sales Promotion Employees (Condition of Service) Act, 1976
x. The Inter-State Migrant workmen (Regulation of Employment and Conditions of Service) Act, 1979
xi. The Cine Workers and Cinema Theatre Workers Act, 1981
xii. The Dock Workers (Safety, Health and Welfare) Act, 1986
xiii. The Building and Other Construction Workers (Regulation of Employment and Conditions of Service) Act, 1996
৩. OSH কোডে উপরের ১৩-টি আইনের তুলনায় উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিম্নলিখিত সারণিতে উপস্থাপিত হয়েছে:
বিষয় | বিদ্যমান নিয়ম | OSH ও WC কোড ২০২০
ধারার সংখ্যা | ১৩ | ১
সেকশান | ৬২০ | ১৪৩
নিয়ম | ৮৬৮ | ১৭৫
নিবন্ধন | ৬ | ১
লাইসেন্স | ৪ | ১
ফর্ম | ৫৫ | ২০
রিটার্ন| ২১ | ১
অপরাধের কম্পাউন্ডিং | কোনো বিধান ছিল না | নতুন বিধান
উন্নতিসাধনের নোটিস | কোনো বিধান ছিল না | নতুন বিধান
কর্মচারী অনুকূল বিধান
1. নিয়োগপত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকীকরণ: প্রতিটি কর্মচারী নির্ধারিত বিন্যাস অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাবেন, যেখানে কর্মচারীর বিবরণ, পদবি, শ্রেণি, মজুরির বিবরণ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিবরণ উল্লেখ থাকবে।
এই বিধান কর্মসংস্থান, মজুরি, পদবি এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কর্মচারীদের উপকার করবে। এটি মজুরি, কাজের ঘণ্টা বা চাকরির প্রত্যাশা সংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতেও সহায়তা করবে।
2. বিনামূল্যে বার্ষিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা: প্রতিটি কর্মচারী বছরে একবার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা পাবেন। এটি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণে সহায়তা করে, কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয় কমায় এবং একটি সুস্থ কর্মীবাহিনী নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও কল্যাণ বৃদ্ধি করে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত ঝুঁকি হ্রাস করে। শিল্পক্ষেত্রও কম অনুপস্থিতি এবং বেশি উৎপাদনশীলতার সুবিধা পায়।
3. সেফটি কমিটি : যে সকল কারখানায় ৫০০ বা তার বেশি কর্মী নিযুক্ত রয়েছে, যে নিয়োগকর্তা ২৫০ বা তার বেশি বিল্ডিং ও আদার কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স (BOCW) নিযুক্ত করেন এবং যে নিয়োগকর্তা ১০০ বা তার বেশি খনি শ্রমিক নিযুক্ত করেন, তাদের ক্ষেত্রে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি গঠন করতে হবে, যা নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হবে। শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকে এটি আরও শক্তিশালী করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শ্রমিকদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করে তাদের ক্ষমতায়িত করে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বাড়ায়, দুর্ঘটনা কমায় এবং যৌথ দায়িত্ববোধের একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
৪. শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠানের সার্বজনীন আওতা: এই কোড শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও কল্যাণের বিধান সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেছে, যা পূর্বে মাত্র সাতটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল, যথা কারখানা, খনি, চা-বাগান/প্ল্যানটেশন, বিড়ি-সিগার, ডক ওয়ার্কার, BOCW এবং মোটর পরিবহন।
৫. বেতনের সাথে বার্ষিক ছুটি: কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকরা একটি ক্যালেন্ডার বছরে ১৮০ দিন বা তার বেশি কাজ করলে বেতনের সাথে ছুটির অধিকারী হবেন, যেখানে আগে ২৪০ দিন কাজ করা বাধ্যতামূলক ছিল। ২৪০ দিন থেকে ১৮০ দিনে যোগ্যতার সংকোচন এবং কর্মঘণ্টার নমনীয়তা আরও বেশি শ্রমিককে বেতনের ছুটির আওতায় আনে। বেতন-সহ ছুটি বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করে, যা উৎপাদনশীলতা ও কাজের সন্তুষ্টি বাড়ায়।
৬. চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক- কল্যাণ ও মজুরি: কোড চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থাসহ কল্যাণমূলক সুবিধা প্রদানে মূল নিয়োগকর্তার উপর দায়িত্ব আরোপ করেছে। যদি ঠিকাদার মজুরি প্রদান করতে ব্যর্থ হন, তাহলে মূল নিয়োগকর্তাকেই চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের অনাদায়ী মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে শ্রমিকরা সময়মতো মজুরি পান এবং চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরাও সমমানের নিরাপত্তা মান পেয়ে থাকে।
৭. আন্তঃরাজ্য অভিবাসী শ্রমিক: আন্তঃরাজ্য অভিবাসী শ্রমিকের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত, ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং স্বেচ্ছায় স্থানান্তরিত শ্রমিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক আন্তঃরাজ্য অভিবাসী শ্রমিক বছরে একবার যাতায়াত ভাতার অধিকারী হবেন, যা নিয়োগকর্তাকে প্রদান করতে হবে। কোডে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইনের ব্যবস্থাও রয়েছে। অভিবাসী নির্মাণ শ্রমিকরা BOCW সেস ফান্ড এবং PDS রেশনের সুবিধার পোর্টেবিলিটিও পাবেন।
৮. অডিও-ভিজ্যুয়াল কর্মীর সংজ্ঞা সংশোধন করা হয়েছে এবং এখন এর মধ্যে ডিজিটাল/অডিও-ভিজ্যুয়াল কর্মী, ডাবিং শিল্পী, স্টান্ট পারফর্মারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে, তারাও আইনের সুবিধা পাবেন। কোড এখন ডাবিং শিল্পী ও স্টান্ট কর্মীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং আইনি সুরক্ষার সুযোগ প্রদান করছে, যা তাদের কর্মপরিবেশকে আরও নিরাপদ ও ন্যায়সংগত করে।
অডিও-ভিজ্যুয়াল কর্মীদের নিয়োগ একটি চুক্তির মাধ্যমে করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত করতে হবে। এতে তারা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষার অধিকার পাবেন, যা নিরাপদ ও ন্যায়সংগত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
৯. কর্মরত সাংবাদিক: কর্মরত সাংবাদিকের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং এখন এর মধ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে শুধু প্রিন্ট সাংবাদিকতা নয়, টিভি, রেডিও, অনলাইন ইত্যাদির সাংবাদিকরাও এর আওতায় এসেছেন, যা সংজ্ঞাটিকে সময়োপযোগী করেছে। এর ফলে, সাংবাদিকরাও অন্যান্য কারখানা বা অফিস কর্মীদের মতো কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। পূর্বের সংজ্ঞা শুধুমাত্র সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সীমাবদ্ধ ছিল, যেমন সম্পাদক, লিডার-রাইটার, নিউজ এডিটর, সাব-এডিটর, ফিচার রাইটার, কপি-টেস্টার, রিপোর্টার, সংবাদদাতা, কার্টুনিস্ট, নিউজ ফটোগ্রাফার এবং প্রুফ-রিডার।
১০. স্বাভাবিক কর্মদিবসের ওয়ার্ক-আওয়ার নির্ধারণ: স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে কর্মচারীরা যথাযথ পারিশ্রমিক ছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপের সম্মুখীন না হন, ফলে, তাদের স্বাস্থ্য ও কাজ-জীবনের ভারসাম্য সুরক্ষিত থাকে। কোনো কর্মচারীকে দিনে আট ঘণ্টার বেশি ও সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। এছাড়া, বিরতির সময় ও মোট কাজের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা উপযুক্ত সরকারকে প্রদান করা হয়েছে।
১১. কর্মঘন্টা ও অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) ঘন্টা নির্ধারণে নমনীয়তা: আগে দৈনিক ন ঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা নির্দিষ্ট থাকায় কোনো নমনীয়তা ছিল না। কিন্তু OSH কোডে নিয়মের মাধ্যমে নমনীয়তা আনা হয়েছে, যেমন ৪-দিনের সপ্তাহে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা, ৫-দিনের সপ্তাহে প্রতিদিন ৯.৫ ঘণ্টা এবং ৬-দিনের সপ্তাহে প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ ওভারটাইম ছাড়া করা যাবে।
উপযুক্ত সরকারকে ওভারটাইম ঘন্টার সীমা নির্ধারণে পূর্ণ নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল ত্রৈমাসিকে ৭৫ ঘণ্টা, যা এখন উপযুক্ত সরকার নির্ধারণ করতে পারবে।
ওভারটাইম কর্মীর সম্মতিতে হবে। এতে শ্রমিক দুটি সুবিধা পাবেন, অতিরিক্ত সময় কাজ করে বেশি আয় করার সুযোগ এবং দ্বিগুণ হারে মজুরি পাওয়া; পাশাপাশি, ওভারটাইমে সম্মতি দেওয়া সম্পূর্ণ কর্মীর স্বাধীনতা ও নমনীয়তার ওপর নির্ভর করবে।
১২. প্ল্যানটেশন শ্রমিকদের জন্য ESI সুবিধা: প্ল্যানটেশন নিয়োগকর্তা এখন চিকিৎসা সেবার জন্য ESI সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে নিয়োগকর্তার খরচ কমে এবং শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত হয়।
নারী সহায়ক বিধান
১. মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণে বৃদ্ধি: মহিলা শ্রমিকরা এখন সকল প্রতিষ্ঠানে এবং সকল ধরণের কাজে কাজ করার অধিকার পাবেন। মহিলারা রাতের শিফটেও কাজ করতে পারবেন, অর্থাৎ সকাল ৬টার আগে এবং সন্ধ্যা ৭টার পর, তাদের সম্মতি সাপেক্ষে। নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই তাদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা, সুবিধা এবং পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিধান কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা বাড়ায়, মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে এবং মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করে।
২. ক্রেশ সুবিধা:
যে সব প্রতিষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি শ্রমিক রয়েছে, সেখানে ক্রেশ সুবিধা প্রদান বাধ্যতামূলক, পৃথকভাবে বা উপযুক্ত স্থানে যৌথ ক্রেশের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ক্রেশ সুবিধা ৬ বছরের নিচে থাকা শিশু কর্মরত মায়েদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ, এটি কর্মক্ষেত্রেই শিশু পরিচর্যার সুযোগ দেয় এবং মহিলাদের কাজ ও পরিবার, উভয়কেই সামঞ্জস্য করতে সাহায্য করে। আগে ক্রেশ সুবিধা শুধুমাত্র মহিলা শ্রমিকদের জন্য ছিল, এখন এটি সকল শ্রমিকের জন্য লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ও সমানভাবে প্রযোজ্য হয়েছে।
বৃদ্ধি অনুকূল বিধান
১. Ease of Doing Business: ইলেকট্রনিক সিঙ্গল নিবন্ধন, সিঙ্গল রিটার্ন, এবং পাঁচ বছর মেয়াদী সিঙ্গল অল–ইন্ডিয়া লাইসেন্স, সঙ্গে বিবেচিত অনুমোদন, ব্যবসা করার সুবিধা বা “Ease of Doing Business”-কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। এতে প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমে, অনুবর্তিতা খরচ হ্রাস পায় এবং ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার গতি বাড়ে। সহজতর রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, একক রিটার্ন, একক লাইসেন্স এবং বিবেচিত অনুমোদন আমলাতন্ত্র কমায়, ব্যয় হ্রাস করে এবং উদ্যোক্তা ও ব্যবসার বিস্তারকে উৎসাহিত করে, ফলে, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
২. কেন্দ্রীয় সরকার ফ্যাক্টরি, খনি, ডকওয়ার্ক, বিড়ি-সিগার, বিল্ডিং ও অন্যান্য নির্মাণ কাজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মস্থল সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য-বিধির মানদণ্ড সারা দেশের জন্য অভিন্নভাবে নির্ধারণ করবে। বর্তমানে একই শিল্পের জন্য বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রযোজ্য। কোড অনুযায়ী, এই মানদণ্ড সারা দেশে একরূপ হবে। একীকৃত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মানদণ্ড শ্রমিকদের সুরক্ষা বাড়ায়, সব রাজ্যে সমতা নিশ্চিত করে এবং কর্মপরিবেশকে আরও নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত করে তোলে।
৩. চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক - কোর ও নন–কোর কার্যক্রমের সংজ্ঞা: বিশ্বায়নের ফলে, চাকরির ক্ষেত্রে লিবারালাইজেশন, কন্ট্র্যাকচুয়ালাইজেশন, ক্যাজুয়ালাইজেশন এবং বিপুল অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান কনট্রাক্ট লেবার অ্যাক্ট, ১৯৭০ অনুযায়ী নিয়োগকর্তারা অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক চাকরি তৈরি করতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। একই সঙ্গে, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা ইত্যাদি সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি। গ্লোবালাইজেশনের সময়ে অস্থায়ী চাকরি কর্পোরেট জগতে বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু মানুষ এবং সংস্থা অস্থায়ী নিয়োগকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছে। OSH কোডে কোর এবং নন–কোর কার্যক্রম স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এবং নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তাদের কোর কার্যক্রমেও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগের নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে -
(a) প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালী এমন যে, উক্ত কাজ সাধারণত কনট্রাক্টরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়; অথবা
(b) কাজের প্রকৃতি এমন যে, পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না - দৈনিক কাজের অধিকাংশ সময় বা দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না; অথবা
(c) কোর কার্যক্রমে হঠাৎ কাজের চাপ বৃদ্ধি পেলে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা আবশ্যক হলে।
এছাড়াও, কোন কার্যক্রম কোর নাকি নন–কোর - এই সংক্রান্ত বিরোধ নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোর ও নন–কোর কার্যক্রমের মধ্যে পরিষ্কার বিভাজন থাকায় শ্রমিকদের তাদের কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে এবং কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা পাওয়া যাবে।
৪. চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক সম্পর্কিত বিধান প্রযোজ্যতার সীমা ২০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ জন করা হয়েছে। এর ফলে, যেসব ঠিকাদার ৫০ জনের কম চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করেন, তাঁদের আর লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না। সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট ঠিকাদারদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধের চাপ কমবে, ছোট ব্যবসার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, আর বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকবে।
৫. কারখানার লাইসেন্স পেতে প্রযোজ্য শ্রমিকসংখ্যার সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কারখানার জন্য সীমা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ এবং বিদ্যুৎবিহীন কারখানার জন্য ২০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। এছাড়া, কারখানা নির্মাণ বা সম্প্রসারণের অনুমতি দিতে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সময়সীমার মধ্যে অনুমতি না দিলে deemed permission পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়াসম্পন্ন কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য সাইট অ্যাপ্রাইজাল কমিটিকে সুপারিশ দিতে ৩০ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সময়বদ্ধ অনুমোদন ব্যবস্থার ফলে কারখানা স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ হবে, বিলম্ব কমবে, শিল্পোন্নয়ন দ্রুত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
এই বিধান ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে উপকারী, যারা দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থানদাতা। ছোট ইউনিটগুলোর জন্য নিয়মকানুন সহজ হওয়ায় তারা উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবে, ফলে আরও বেশি আনুষ্ঠানিক চাকরি তৈরি হবে যেখানে শ্রমিকরা পূর্ণ OSH সুবিধা যেমন EPFO ও ESIC-এর আওতায় আসতে পারবেন।
৬. ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস এবং অপরাধের অপরাধমুক্তিকরণ : নির্দিষ্ট কিছু লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তি (যেমন কারাদণ্ড) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবর্তে বেসামরিক শাস্তি (যেমন আর্থিক জরিমানা) প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে নিয়োগকর্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩০ দিনের উন্নয়ন-নোটিস দেওয়া হবে, যাতে তিনি আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সংশোধন করতে পারেন। এটি ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে, নিয়োগকর্তাকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বদলে স্বেচ্ছাসেবী অনুগতিকে উৎসাহিত করে।
বহু অপরাধ অপরাধমুক্ত হওয়ায় আইন এখন আরও কম দণ্ডনীয় এবং বেশি সম্মতি-ভিত্তিক হয়েছে। এর ফলে কারাদণ্ডের ভয় কমে, স্বেচ্ছায় নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়ে, মামলা-মোকদ্দমা কমে যায় এবং “Ease of Doing Business” আরও শক্তিশালী হয়।
এই নতুন সম্মতি ব্যবস্থা শ্রমিকদের জন্যও অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। পূর্বের মতো দীর্ঘদিন মামলা বা বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে থাকার প্রয়োজন পড়ে না।
৭. অপরাধের কম্পাউন্ডিংঃ প্রথমবার সংঘটিত এমন অপরাধ, যার শাস্তি কেবলমাত্র জরিমানা, সেগুলি সর্বোচ্চ জরিমানার ৫০% জমা দিয়ে কম্পাউন্ড করা যাবে। আর যেসব অপরাধে জরিমানা বা জরিমানা-সহ কারাদণ্ড উভয়ই প্রযোজ্য—সেগুলি সর্বোচ্চ জরিমানার ৭৫% জমা দিয়ে কম্পাউন্ড করা যাবে। এতে আইন আরও কম দণ্ডনীয় হয় এবং সম্মতি-ভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুমোদিত কর্মকর্তার মাধ্যমে অপরাধ কম্পাউন্ডের সুযোগ রয়েছে, ব্যবসায় আইনি ঝঞ্ঝাট কমানোর পাশাপাশি, দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং ব্যবসার পরিবেশকে আরও সহজ করে তোলার অবকাশ রয়েছে। নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট জরিমানা প্রদান করে দীর্ঘমেয়াদী মামলার পরিবর্তে দ্রুত সমাধানে যেতে পারেন, যা তাদের জন্য সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী। এই সময়সীমাবদ্ধ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বিচার-নিষ্পত্তির গতি বাড়ায় এবং নিয়ন্ত্রক দক্ষতা উন্নত করে। শ্রমিকরাও এতে উপকৃত হন, কারণ, কম্পাউন্ডিং থেকে প্রাপ্ত অর্থ অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে জমা হবে। এই তহবিল অসংগঠিত শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে, ফলে তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।
৮। থার্ড পার্টি অডিট ও শংসায়ন: এই কোডে প্রথমবারের মতো স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের জন্য থার্ড পার্টি অডিট ও সার্টিফিকেশন-এর বিধান করা হয়েছে। এর ফলে পরিদর্শক-সহ-সহায়ক-এর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা মান পর্যালোচনা এবং উন্নত করতে পারবে। এটি “ইনস্পেক্টর রাজ”-এর প্রবণতা হ্রাস করবে এবং একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মান আরও উন্নত করবে। তৃতীয় পক্ষের অডিট দ্রুত ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ায় শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
৯. ইন্সপেক্টরের পরিবর্তে ইনস্পেক্টর-কাম-ফেসিলটেটর নিয়োগ এবং র্যান্ডমাইজড ওয়েব-ভিত্তিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত “ইনস্পেক্টর রাজ”, যা আগে অনধিকারমূলক, জটিল এবং ঝঞ্ঝাটপূর্ণ মনে হতো, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ও পরিষ্কার নির্দেশিকা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিদর্শন আরও স্বচ্ছ, কার্যকর, ঝুঁকি ভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত হয়েছে।
ইন্সপেক্টররা এখন কেবলমাত্র তদারকির ভূমিকা পালন না করে ফেসিলিটেটর হিসেবে কাজ করবেন, অর্থাৎ নিয়োগকর্তাদের আইন, নিয়ম এবং বিধিবিধান মেনে চলতে সহায়তা করবেন। এই পরিবর্তন কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলে এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করে।
• এটি পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করে তোলে এবং নির্দেশনা-ভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে নিয়মাবলী মানার প্রবণতা বাড়ায়।
• পুরনো “ইনস্পেক্টর রাজ”-এর বদলে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ইচ্ছামতো হয়রানি কমায়।
• র্যান্ডমাইজড ওয়েব-ভিত্তিক পরিদর্শন নিশ্চিত করে, ফলে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকে না।
• ইন্সপেক্টরদের ভূমিকা এখন সহায়ক - তাদের কাজ শ্রম আইন মেনে চলার জন্য নিয়োগকর্তাকে দিকনির্দেশনা দেওয়া, যা শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের সুরক্ষায় সহায়তা করে।
• এতে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ তৈরি হয়, যা শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই উপকারী, কারণ এটি অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ছাড়াই ভালো কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে।
• নিয়মিত, দায়িত্বশীল এবং সঙ্গতিপূর্ণ তদারকির মাধ্যমে শ্রম সুরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়।
১০. রেজিস্টার ও রেকর্ড রক্ষণে হ্রাস: এই কোডের অধীনে রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণের সংখ্যা ৮৪ থেকে কমিয়ে মাত্র আট-এ আনা হয়েছে, যা একটি বড় ধরনের সংস্কার। কোডটি রেকর্ড ডিজিটাইজেশনকেও উৎসাহিত করে, ফলে, নথি সংরক্ষণ হয় আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং কার্যকর।
১১. ন্যাশনাল বোর্ড ও জাতীয় মানদণ্ড: বহু বোর্ডের পরিবর্তে এখন একটি মাত্র জাতীয় ত্রিপক্ষীয় বোর্ড কেন্দ্রীয় সরকারকে মানদণ্ড, বিধি-বিধান প্রভৃতি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবে। সারা দেশে একীভূত মানদণ্ড প্রয়োগের ফলে নিয়োগকর্তাদের জন্য সম্মতি দেওয়া সহজ হয়, শিল্প ও রাজ্যভেদে শ্রমিক সুরক্ষা সমানভাবে নিশ্চিত হয়, এবং দেশের সর্বত্র ease of doing business উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
কর্মসংস্থান সহযোগী বিধান
১. সকল প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের কর্মসংস্থানের অধিকার, রাতের শিফটসহ: কোডটি (প্রয়োজনীয় সুরক্ষা-ব্যবস্থাসহ) সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুলে দিয়েছে, এমনকি রাতের কাজের ক্ষেত্রেও। এর ফলে, নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের পরিসর প্রসারিত হবে। এটি বিভিন্ন শিল্পে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে লিঙ্গসমতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী করবে।
২. কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকীকরণ - নিয়োগপত্র প্রদান: নিয়োগকর্তার নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সম্পর্ক আরও আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট হয়। এর ফলে, কর্মসংস্থানের শর্তাবলি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীরা সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক নিরাপত্তা পায়, শোষণ কমে এবং চাকরির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
৩. ফ্যাক্টরি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য শ্রমিকসংখ্যার থ্রেশহোল্ড বাড়ানোয় নিয়োগকর্তারা আরও নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনে উৎসাহিত হবেন, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং আরও বেশি কর্মসংস্থান আনুষ্ঠানিক হবে।
৪. শ্রম আইনসমূহের যৌক্তিকীকরণ, সহজ ব্যবসাপ্রক্রিয়া ও অপরাধের ডিক্রিমিনালাইজেশন: এই সংস্কারগুলো শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI), বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SMEs) জন্য বেশি নমনীয়তা: SME-গুলিকে অনুমোদন ছাড়াই সম্প্রসারণ বা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ায় তারা কর্মী নিয়োগে আরও আগ্রহী হবে।
৬. সম্মতি প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ক্ষুদ্র শিল্পগুলি দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হতে পারে।
****
SC..
(तथ्य सामग्री आईडी: 150478)
आगंतुक पटल : 14
Provide suggestions / comments