Others
এফসিআরএ: বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন
प्रविष्टि तिथि:
22 JUL 2026 18:46 PM
নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই ২০২৬
ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে বিদেশি অনুদান
বিশ্বায়নের ফলে, দেশের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের চলাচল, ভাবনার আদান-প্রদান, প্রযুক্তি এবং আর্থিক সম্পদের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক কাজে বিশ্বজুড়ে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভারতও এই ধরনের সহযোগিতা থেকে উপকৃত হয়েছে। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য হাজার হাজার সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণ করছে।
বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন
বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (Foreign Contribution (Regulation) Act - FCRA) অনুযায়ী, ভারতের ব্যক্তি, সমিতি, বেসরকারি সংস্থা (NGO), ট্রাস্ট এবং সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ, সিকিউরিটি বা অন্যান্য সামগ্রী কিভাবে গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারবে, তা নির্ধারিত হয়েছে। এই আইনটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরিচালনা করে।
সহজভাবে বলতে গেলে, এফসিআরএ তিনটি প্রধান বিষয় নির্ধারণ করে।
বিদেশি অনুদান কারা গ্রহণ করতে পারবেন এবং কোন শর্তে তা গ্রহণ করা যাবে।
বিদেশি অনুদান কিভাবে গ্রহণ, হিসাবরক্ষণ এবং তার বিবরণ জমা দিতে হবে।
বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এমন কিছু নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
মূল উদ্দেশ্য
১৯৭৬ সালে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সংশোধন সত্ত্বেও এফসিআরএ-র মৌলিক নীতিগুলি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই নীতিগুলি নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি একটি দায়িত্বশীল সরকারের কর্তব্যকে প্রতিফলিত করে।
স্বচ্ছতা
বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী প্রত্যেক সংস্থাকে সরকারের কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। নির্ধারিত ও যাচাইযোগ্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করতে হবে। কত অর্থ পাওয়া হয়েছে, কার কাছ থেকে এসেছে এবং কোন উদ্দেশ্যে তা ব্যয় করা হয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করতে হবে।
জবাবদিহি
বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে প্রতিবছর নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনলাইনে জমা দিতে হয়। অনুদানদাতা, প্রাপ্ত অর্থ এবং সেই অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত থাকে। এর ফলে বিদেশি উৎস থেকে মাঠপর্যায়ে অর্থ ব্যবহারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণযোগ্য হয়।
সার্বভৌমত্ব
বিদেশ থেকে প্রাপ্ত এমন অনুদান, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন প্রক্রিয়া, জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি বৈধ দাতব্য কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ।
প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা
এফসিআরএ-র উদ্দেশ্য প্রকৃত আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করা নয়, বরং তা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ড আইন নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে অব্যাহতভাবে পরিচালিত হতে পারে।
জনআস্থা বৃদ্ধি
যখন নাগরিকরা নিশ্চিত হন যে, বিভিন্ন সংস্থায় বিদেশি অনুদান গ্রহণ, তার বিবরণ প্রকাশ এবং নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক, তখন স্বেচ্ছাসেবী ক্ষেত্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধি পায়। স্বচ্ছতা যেমন উপকারভোগীদের সুরক্ষা দেয়, তেমনই অনুদানদাতার উদ্দেশ্যও সুরক্ষিত রাখে।
আইনের বিবর্তন: নতুন নিষেধাজ্ঞা নয়, আরও বেশি স্বচ্ছতা
গত পাঁচ দশকে বিভিন্ন সরকারের উদ্যোগে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণের ভারতের কাঠামো ধারাবাহিকভাবে পরিমার্জিত হয়েছে। প্রতিটি সংশোধনের মূল লক্ষ্য ছিল আরও বেশি তথ্য প্রকাশ, জবাবদিহি জোরদার করা এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করে তোলা।
বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ভারত ১৯৭৬ সালে প্রথম বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত আর্থিক লেনদেন আরও জটিল হয়ে ওঠায় সংসদ ২০১০ সালে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১০ প্রণয়ন করে, যা আগের আইনটির পরিবর্তে একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলে।
ভারতের অবস্থানের পাঁচটি মূল ভিত্তি
বিদেশি আর্থিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার
প্রত্যেক সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে তার সীমানার বাইরে থেকে আসা অর্থ কিভাবে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাহিত হচ্ছে তা জানা এবং প্রয়োজনে তার উপর শর্ত আরোপ করা।
ভারতও একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে সেই স্বাভাবিক অধিকারই প্রয়োগ করছে।
এটি নিষেধাজ্ঞা নয়, স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশের কাঠামো
এফসিআরএ ভারতীয় ব্যক্তি বা সংস্থাকে বিদেশি দাতব্য অনুদান, গবেষণা অনুদান বা মানবিক সহায়তা গ্রহণে বাধা দেয় না। তবে, এই ধরনের অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধন, নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে অর্থ গ্রহণ এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
কোম্পানি আইন, ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক দলগুলির অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয়।
গণতান্ত্রিক জবাবদিহির জন্য স্বচ্ছতা অপরিহার্য
বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে নীতি, নির্বাচন বা জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে সেই অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ না থাকলে নাগরিক, সংবাদমাধ্যম বা সংসদ কারও পক্ষে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই তথ্য প্রকাশ জবাবদিহির পূর্বশর্ত।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিদেশি প্রভাব একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ
বিদেশি রাষ্ট্রের গোপন অর্থায়নের মাধ্যমে জনমত গঠন, লবিং বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ থেকে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার—সব ক্ষেত্রেই এই উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।
ভারতের নীতি আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
ভারতের অবস্থান ব্যতিক্রমী নয়। বিশ্বের প্রধান গণতান্ত্রিক দেশগুলিও বিদেশি প্রভাব সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য আইন আরও শক্তিশালী করেছে। এফসিআরএ সেই আন্তর্জাতিক প্রবণতারই অংশ।
বাস্তবে এফসিআরএ কিভাবে কার্যকর হয়
বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রতিটি সংস্থার জন্য এফসিআরএ একটি সুস্পষ্ট, নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
নিবন্ধন ও পূর্বানুমতি
যে কোনও সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে চাইলে, অন্তত তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনার পর এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধন করতে পারে অথবা নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য পূর্বানুমতির আবেদন করতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিচয় যাচাই, প্রস্তাবিত কর্মকাণ্ডের বিবরণ এবং পদাধিকারীদের তথ্য জমা দিতে হয়।
কিস্তিতে বিদেশি অনুদান বিতরণ
বৃহৎ অঙ্কের বিদেশি অনুদান কিস্তিতে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কিস্তির অন্তত ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় ও যাচাই হওয়ার পর পরবর্তী কিস্তি ছাড়া হয়।
একক ও যাচাইযোগ্য প্রবেশদ্বার
সব বিদেশি অনুদান প্রথমে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র নয়াদিল্লি প্রধান শাখায় নির্ধারিত এফসিআরএ হিসাবে জমা হতে হবে। এর ফলে, দেশে প্রবেশকারী প্রতিটি বিদেশি অনুদানের একটি নিরীক্ষাযোগ্য সূচনাবিন্দু তৈরি হয়।
পরবর্তীকালে সেখান থেকে বৈধ কর্মসূচির জন্য অন্য পরিচালন হিসাবগুলিতে অর্থ স্থানান্তর করা যেতে পারে।
ঘোষিত উদ্দেশ্য ও অর্থের ব্যবহার
সংস্থাগুলিকে বিদেশি অনুদান গ্রহণের উদ্দেশ্য আগে থেকেই ঘোষণা করতে হয় এবং সেই ঘোষিত উদ্দেশ্যেই অর্থ ব্যয় করতে হয়। বার্ষিক বিদেশি অনুদানের সর্বাধিক ২০ শতাংশ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যয় করা যায়। বাকি ৮০ শতাংশ নির্ধারিত কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করতে হয়।
বার্ষিক নিরীক্ষিত তথ্য প্রকাশ
প্রত্যেক নিবন্ধিত সংস্থাকে প্রতি বছর FC-4 ফর্মে অনলাইনে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দিতে হয়। এতে অনুদানদাতার পরিচয়, প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ থাকে। এই তথ্য সরকার পরিচালিত FCRA Online Portal-এ জমা হয়। এর ফলে বিদেশি অনুদান সম্পর্কিত একটি নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে ওঠে।
পাঁচ বছরের নিবন্ধন ও নবীকরণ
এফসিআরএ নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবীকরণ বাধ্যতামূলক। নবীকরণের সময় সরকার নির্ধারিত তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে কি না এবং সংস্থাটি ঘোষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী সক্রিয় রয়েছে কি না তা যাচাই করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবীকরণ না হলে নিবন্ধনের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়।
বিদেশি অনুদান গ্রহণে অযোগ্য নির্দিষ্ট শ্রেণী
১৯৭৬ সাল থেকে একটি নির্দিষ্ট সীমিত শ্রেণীর ব্যক্তি ও সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, আইনসভার সদস্য, বিচারপতি, সরকারি কর্মচারী, সংবাদ প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত সম্পাদক ও প্রকাশক এবং রাজনৈতিক দল।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের দায়িত্বের কারণে এই বিধান প্রযোজ্য হয়েছে।
বিদেশি অনুদান থেকে সৃষ্ট সম্পদের হস্তান্তর
বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনও সংস্থার নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা কার্যকারিতা শেষ হলে বিদেশি অনুদান এবং সেই অনুদান থেকে সৃষ্ট সম্পদ এফসিআরএ-র ধারা ১৫ অনুসারে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হয়। এই বিধান ২০১০ সাল থেকেই কার্যকর রয়েছে। গত এক দশকে প্রায় ২০,০০০টি নিবন্ধন বাতিল হয়েছে এবং প্রায় ১৫,০০০টি নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর ফলে, বিদেশি অনুদান ও সেই অনুদান থেকে সৃষ্ট হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ধারা ১৫-এর বর্তমান বিধান অনুযায়ী ওই সম্পদের দখল নেওয়া, সংরক্ষণ বা পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বিদেশি অনুদান কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে
এফসিআরএ-র আওতায় ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত বিস্তৃত ধরনের কর্মকাণ্ডে বিদেশি অনুদান গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
নিবন্ধিত সংস্থাগুলি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে।
ক্ষেত্র অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের উদাহরণ
শিক্ষা
বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, বৃত্তি প্রদান, শিক্ষাবিষয়ক গবেষণা, গ্রন্থাগার, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি
স্বাস্থ্য পরিষেবা
হাসপাতাল, ক্লিনিক, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, সম্প্রদায়ভিত্তিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা
গ্রামীণ উন্নয়ন
জলাধার উন্নয়ন, জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচি, কৃষি সম্প্রসারণ, সাস্থ্যবিধি, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, আবাসন
সমাজকল্যাণ
বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক, শিশু কল্যাণ, নারী ক্ষমতায়ন এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি
পরিবেশ
সংরক্ষণ উদ্যোগ, বনসৃজন, পরিচ্ছন্ন শক্তি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, পরিবেশবিষয়ক গবেষণা
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, লোকশিল্প, দেশজ জ্ঞান, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, জাদুঘর এবং সংরক্ষণাগার
ত্রাণ ও পুনর্বাসন
দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি ত্রাণ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, পুনর্বাসন সহায়তা
ধর্মভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম
উপাসনাস্থল রক্ষণাবেক্ষণ, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, ধ্যান কর্মসূচি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ
বৈজ্ঞানিক গবেষণা
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষাগার, শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং জ্ঞান বিনিময়
কর্মকাণ্ড ও রাজ্যভিত্তিক নিবন্ধন
এফসিআরএ নিবন্ধন শংসাপত্রে এখন সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং যে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এগুলি নির্ধারিত তালিকা থেকে নির্বাচন করতে হবে; সাধারণ বা বিস্তৃত শ্রেণীভিত্তিক অনুমোদনের পরিবর্তে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
ইতিমধ্যে নিবন্ধিত সংস্থাগুলিকে এক বছরের মধ্যে জানাতে হবে, তারা কোন কর্মকাণ্ড এবং কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের নিবন্ধন বহাল রাখতে চায়।
এই ব্যবস্থার ফলে, সাধারণ অনুমোদনের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য অনুমোদন কার্যকর হবে।
ধর্মভিত্তিক কর্মকাণ্ড
ধর্মভিত্তিক উদ্দেশ্যে বিদেশি অনুদান কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, তা এখন বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক সংস্থাগুলি বিদেশি অনুদান গ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবে।
নিবন্ধন নবীকরণের জন্য ন্যূনতম ব্যয়ের শর্ত
এফসিআরএ নিবন্ধন নবীকরণের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে দেখাতে হবে যে, আগের দুই বছরে তারা বিদেশি অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকা নির্ধারিত কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছে।
এর ফলে, কেবল সক্রিয় ও কার্যকর সংস্থাগুলিই বৈধ নিবন্ধন বজায় রাখতে পারবে।
তথ্য প্রকাশের বিধি আরও শক্তিশালী করা
বার্ষিক রিটার্নে এখন প্রকল্পভিত্তিক এবং কর্মকাণ্ডভিত্তিক অর্থ ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এছাড়া, সংস্থার ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও প্রকাশ করতে হবে।
মধ্যবর্তী কোনও সংস্থার মাধ্যমে বিদেশি অনুদান এলেও, প্রকৃত বিদেশি অনুদানদাতার পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভারত ও বিশ্ব: একটি অভিন্ন আন্তর্জাতিক চর্চা
বিদেশি অনুদান এবং বিদেশি প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা শুধুমাত্র ভারতের নীতি নয়। গত এক দশকে বিশ্বের প্রধান গণতান্ত্রিক দেশগুলি বিদেশি অর্থায়ন, বিদেশি লবিং এবং বিদেশি প্রভাব-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী করেছে। অনিয়ন্ত্রিত বিদেশি অর্থ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জনপরিসরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে - এই উদ্বেগ আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। সেই কারণেই বিভিন্ন দেশ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছে।
আন্তর্জাতিক গ্রহণ আরও জোরদার হচ্ছে
যে সময়ে এফসিআরএ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, সেই সময়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদেশি প্রভাব সংক্রান্ত আইন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিদেশি প্রভাব-সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থা ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কার্যকর হয়েছে।
কানাডার বিদেশি প্রভাব নিবন্ধন ব্যবস্থা ২০২৪ সালে আইন হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং বর্তমানে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাব একটি ইউরোব্যারোমিটার সমীক্ষার পর সামনে আসে, যেখানে ৮১ শতাংশ ইউরোপীয় নাগরিক গোপন বিদেশি হস্তক্ষেপকে একটি গুরুতর সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।
কানাডার আইনের ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কানাডা এবং তার সহযোগী দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য গড়ে উঠেছে যে, বিদেশি প্রভাব নিবন্ধন ব্যবস্থা সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ কমানোর একটি প্রয়োজনীয় উপায়।
যুক্তরাষ্ট্র- এই ধরনের আইনি কাঠামোর প্রথম প্রবর্তক। ২০২৫ সালে তাদের ৮৭ বছর পুরোনো Foreign Agents Registration Act (FARA) আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে।
স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের একটি কাঠামো
বিদেশি অনুদান শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আরও বহু ক্ষেত্রে ভারতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারত প্রকৃত আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানায় এবং এই ধরনের অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের জন্য সবসময় একটি আইনি কাঠামো বজায় রাখার ব্যবস্থা করেছে।
বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (এফসিআরএ) সেই আইনি কাঠামো। এই আইন নিশ্চিত করে যে, বিদেশি অনুদান নিবন্ধিত, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করবে। সংস্থাগুলিকে তারা কত অনুদান গ্রহণ করেছে এবং কিভাবে সেই অর্থ ব্যয় করেছে, তার হিসাব রাখতে হয়। একই সঙ্গে এই আইন ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনিয়ন্ত্রিত বিদেশি আর্থিক প্রভাবের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেয়। এর পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার সংস্থাকে বৈধ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগও প্রদান করে।
২০২৬ সালের সংশোধনের লক্ষ্য
২০২৬ সালের সংশোধনী প্রস্তাবের উদ্দেশ্য এই আইনি কাঠামোকে আরও কার্যকর ও সুসংহত করা। এতে প্রশাসনিক ত্রুটি দূর করা, বিধিগুলিকে সুস্পষ্ট করা, বিচারধারার পুনর্বিবেচনা ও আপিলের সুযোগ প্রদান এবং জরিমানার বিধানকে আরও যুক্তিসংগত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) বিধি, ২০২৬ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ বর্তমানে সংসদের বিবেচনাধীন রয়েছে। এই উদ্যোগ প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা দায়িত্বশীল আইন প্রণয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রন কাঠামো গৃহীত হয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ডের উপর কোনও বাধা নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা জনকল্যাণমূলক কাজের অন্তরায় নয়। সেই কাজের প্রতি জনবিশ্বাস গড়ে তোলার-ও মূল ভিত্তি।
তথ্যবিবরণী
Please See PDF
*****
SSS/SS
(तथ्य सामग्री आईडी: 150790)
आगंतुक पटल : 8
Provide suggestions / comments