Social Welfare
ক্যানসারের ওষুধের দাম আরও কম হল: বাণিজ্যিক মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণে রোগীদের কি সুবিধা হবে
प्रविष्टि तिथि:
06 NOV 2026 14:12 PM
১৩৭টি ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য ৩০ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছে
নয়াদিল্লি, ৬ নভেম্বর ২০২৬
ক্যানসারের ওষুধের দাম গড়ে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে
দেশে ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ কমাতে ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে, খুচরো ও হাসপাতালের ওষুধের দোকান-সহ, অতিরিক্ত মুনাফার উপর ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যে (এমআরপি) গড়ে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের কথা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্যহ্রাসের পরিমাণ ৯৬.৪৫ শতাংশ (৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)।
এমআরপি কমানোর ফলে, আনুমানিক ৩,৩৫৭.৪৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে হিসাব করা হয়েছে (৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এবছর মার্চ মাস পর্যন্ত বিক্রি হওয়া ওষুধের পরিমাণের ভিত্তিতে আগের ও সংশোধিত মূল্যের পার্থক্য থেকে এই হিসাব করা হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ সংগ্রহের মূল্য এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের (এমআরপি) মধ্যে বিপুল ব্যবধান নিয়ে রাজ্য কর্তৃপক্ষ, রোগী এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওষুধের দাম যাচাই করতে গ্রাহকরা এনপিপিএ-র ওয়েবসাইট এবং সরকারি ‘ফার্মা সহি দাম’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন দাম নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের ডিস্ট্রিবিউটর মূল্য গ্রহণ করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক মুনাফা কি?
ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা যে দামে স্টকিস্ট বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে ওষুধ বিক্রি করে এবং রোগী যে সর্বোচ্চ দামে ওষুধ কেনেন, এই দুই মূল্যের পার্থক্যই বাণিজ্যিক মুনাফা। পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) বাদ দিয়ে এই পার্থক্য হিসাব করা হয়। বাণিজ্যিক মুনাফার হার অত্যধিক হলে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে বিপুল মুনাফা যুক্ত হয়। ফলে, রোগীদের জন্য ওষুধের চূড়ান্ত দাম অনেক বেড়ে যায়। ক্যানসারের এমনিতেই ব্যয়বহুল ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার বিক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে রোগীদের কিনতে হয়।
ওষুধের দাম কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়
জীবনদায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীদের কাছে আরও সুলভ করতে সরকার ২০১৩ সালের ওষুধ (মূল্য নিয়ন্ত্রণ) আদেশ (ডিপিসিও)-এর অধীনে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করে।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন অনুযায়ী এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত মুনাফা রোধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুলভ রাখা।
২০১৩ সালের ডিপিসিও-তে ওষুধকে দুটি ভাগে রাখা হয়েছে:
তালিকাভুক্ত ওষুধ: ২০১৩ সালের ডিপিসিও-র প্রথম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত ওষুধগুলি এই শ্রেণীর। এই তফসিলটি ২০২২ সালের জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (এনএলইএম)-র ভিত্তিতে তৈরি। প্রতিটি ওষুধের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালের এনএলইএম-এ মোট ৩৮৮টি ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩টি ক্যানসারের ওষুধ।
তালিকাবহির্ভূত ওষুধ: ২০১৩ সালের ডিপিসিও-র প্রথম তফসিলে নেই, এমন ওষুধ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তালিকাভুক্ত ওষুধের মতো এগুলির নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারিত থাকে না। তবে, মূল্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ডিপিসিও-র ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও প্রস্তুতকারী সংস্থা ১২ মাসে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য ১০ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারে না। মূল্যবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ১২ মাসের জন্য দাম কমিয়ে ১০ শতাংশের সীমায় আনতে হবে।
জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কি?
জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (এনএলইএম) হল ভারতের প্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ওষুধের সরকারি তালিকা। এর সর্বশেষ সংশোধিত সংস্করণ এনএলইএম ২০২২। সরকারের ‘সবকো দওয়াই, সস্তি দওয়াই’ অর্থাৎ ‘সকলের জন্য ওষুধ, সুলভ মূল্যে ওষুধ’ ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মনসুখ মাণ্ডব্য এই তালিকা প্রকাশ করেন।
ইতিহাস: ১৯৯৬ সালে প্রথম এই তালিকা তৈরি হয়। পরে ২০০৩, ২০১১, ২০১৫ এবং ২০২২ সালে তা সংশোধন করা হয়।
কারা তৈরি করেন: ওষুধ বিষয়ক স্থায়ী জাতীয় কমিটি (এসএনসিএম)-র বিশেষজ্ঞরা এই তালিকা তৈরি করেন। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, শিল্পক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মানদণ্ড পর্যালোচনা করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
এই তালিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসার খরচ কমানো: পরিবারের নিজস্ব খরচে চিকিৎসার বোঝা কমাতে সাহায্য করে।
উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা: ওষুধের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও গুণমান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
পরিকল্পনায় সহায়তা: সরকারি ওষুধ কেনা, হাসপাতালের বাজেট, স্বাস্থ্য বিমা এবং চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনায় দিশা দেখায়।
আদেশের আইনি ভিত্তি: ২০১৩ সালের ডিপিসিও-র ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ
সরকারের বিশেষ ক্ষমতা: ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে সরকার প্রচলিত নিয়মের বাইরেও পদক্ষেপ নিতে পারে।
দাম নির্ধারণ বা পরিবর্তনের ক্ষমতা: প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও ওষুধের সর্বোচ্চ বা খুচরো মূল্য নির্ধারণ এবং তা পরিবর্তনের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। প্রয়োজন বলে বিবেচিত সময় পর্যন্ত এই মূল্য কার্যকর রাখা যেতে পারে।
আগে নির্ধারিত মূল্য পরিবর্তন: কোনও ওষুধের দাম আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও সরকার সরাসরি তা বাড়াতে বা কমাতে পারে। পাইকারি মূল্যসূচকের সঙ্গে যুক্ত নিয়মিত বার্ষিক মূল্য সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
নতুন নির্দেশে ক্যানসারের ওষুধের বাণিজ্যিক মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে
সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের ৩০ শতাংশে বাণিজ্যিক মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা: প্রস্তুতকারী সংস্থার ডিস্ট্রিবিউটরকে দেওয়া মূল্য এবং রোগীর দেওয়া মূল্যের মধ্যবর্তী মুনাফা ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: নিচে তালিকাভুক্ত সব ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ওষুধের মাত্রা বা ধরন, যেমন ট্যাবলেট, ইঞ্জেকশন ইত্যাদি, কিংবা এককভাবে বা অন্য ওষুধের সঙ্গে মিশ্রণে বিক্রি, কোনও ক্ষেত্রেই এই নিয়মের ব্যতিক্রম হবে না।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব: এই হিসাবের প্রাথমিক ভিত্তি হবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের ডিস্ট্রিবিউটর মূল্য, অর্থাৎ স্টকিস্ট বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে ওষুধের বিক্রয়মূল্য।
রোগী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে
ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে এবছর মার্চ মাসের গড় ডিস্ট্রিবিউটর মূল্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে। রোগীদের সহায়তা কর্মসূচির অধীনে বিনামূল্যে দেওয়া ওষুধ এবং সরাসরি সরকারকে বিক্রি করা ওষুধ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। নতুন হ্রাসপ্রাপ্ত দাম এবছর ৯ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। কোনও ওষুধের বর্তমান দাম নতুন নির্ধারিত সর্বোচ্চ দামের চেয়ে কম হলে সেই দাম বাড়ানো যাবে না।
সংস্থাগুলিকে সংশোধিত দাম এনপিপিএ-কে জানাতে হবে। পাশাপাশি, সংবাদপত্রে মূল্যহ্রাসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিজেদের ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া এবং সব খুচরো বিক্রেতা ও হাসপাতালকে সংশোধিত দাম জানানো বাধ্যতামূলক। এনপিপিএ-র ওয়েবসাইটে সংশোধিত দাম প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাগুলি নতুন দাম জমা দিলে তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এবছর ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৭০টি সংস্থা সংশোধিত এমআরপি-র তথ্য জমা দিয়েছে। এর আওতায় রয়েছে ১২০টি ওষুধের ১,১৩৬টি স্টক কিপিং ইউনিট (এসকেইউ)।
ক্যানসারের চিকিৎসায় সরকারের আরও সহায়তা
সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ ক্যানসার চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং ওষুধের ব্যবস্থা করতে সরকার একাধিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
আয়ুষ্মান ভারত-পিএমজেএওয়াই: ক্যানসারের চিকিৎসা-সহ নগদবিহীন হাসপাতাল পরিষেবা
আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (এবি-পিএমজেএওয়াই)-র মাধ্যমে ভারত সরকার সমাজের দরিদ্রতম ৪০ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের এবং ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি সব প্রবীণ নাগরিককে প্রতি পরিবারে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা দেয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ১২.৬৯ কোটি হাসপাতাল ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে ২৭টি চিকিৎসা বিভাগে মোট ১,৯৬১টি চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য নগদবিহীন চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে মেডিক্যাল অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি এবং রেডিয়েশন অনকোলজিও অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পে মেডিক্যাল অনকোলজির অধীনে প্রায় ২,৯২৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৯.৫ লক্ষ হাসপাতাল ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এনপি-এনসিডি: পরীক্ষা থেকে চিকিৎসা, ক্যানসার পরিষেবার বিস্তার
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অন্তর্ভুক্ত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় কর্মসূচি (এনপি-এনসিডি)-র মাধ্যমে সরকার ক্যানসার-সহ অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় পরিকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, রোগ পরীক্ষা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী পাঠানো, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এনপি-এনসিডি-র অধীনে:
ক্যানসার রোগীদের পরিষেবার জন্য ৭৭০টি জেলা অসংক্রামক রোগ ক্লিনিক এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬,৪১০টি অসংক্রামক রোগ ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৫২৪টি ডে কেয়ার ক্যানসার কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
ক্যানসার চিকিৎসার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার রাজ্য ক্যানসার ইনস্টিটিউট (এসসিআই), তৃতীয় স্তরের ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র (টিসিসিসি) এবং এনপি-এনসিডি-র অধীনে জেলা ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র (ডিসিসিসি) প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করছে। এর লক্ষ্য, দেশের সর্বত্র গুণমানসম্পন্ন ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগে সমতা আনা।
তৃতীয় স্তরের ক্যানসার চিকিৎসা আরও শক্তিশালী করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৯টি রাজ্য ক্যানসার ইনস্টিটিউট (এসসিআই) এবং ২০টি তৃতীয় স্তরের ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র (টিসিসিসি) অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ ক্যানসারের পরীক্ষা
দেশজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরগুলিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের ক্যানসার পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এ বছর ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ১.৮৬ লক্ষেরও বেশি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির (এএএম) কার্যকর রয়েছে। অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি, ৩০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের মুখগহ্বর, স্তন এবং জরায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যেমন স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী (আশা) এবং সহকারি ধাত্রী ও নার্স (এএনএম)-দের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষার পরিষেবা দেওয়া হয়।
এ বছর জুলাই মাস পর্যন্ত ক্যানসার পরীক্ষার পরিসংখ্যান:
মুখগহ্বরের ক্যানসার: ৩৬.১১ কোটি
স্তন ক্যানসার: ১৬.৯৪ কোটি
জরায়ুমুখের ক্যানসার: ৯.৩১ কোটি
জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ
এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়। দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ১.২ কোটি যোগ্য ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে এই অভিযানের আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযান শুরুর পর থেকে ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৮০ লক্ষেরও বেশি এইচপিভি টিকার ডোজ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।
সুলভ মূল্যের ওষুধের দোকান: জনঔষধি ও অমৃত
সাধারণ মানুষের কাছে ক্যানসারের ওষুধ-সহ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ আরও সুলভ করতে সরকার একাধিক প্রকল্প পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সুলভ মূল্যে ক্যানসারের ওষুধ, স্টেন্ট এবং ইমপ্ল্যান্ট পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে। ফলে, রোগীদের নিজস্ব খরচ কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সহজ হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিযোজনা (পিএমবিজেপি)
পিএমবিজেপি-র আওতায় ২,১১০টি ওষুধ এবং ৩১৫ ধরনের শল্যচিকিৎসার সামগ্রী, চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যবহার্য সামগ্রী ও যন্ত্র রয়েছে। ক্যানসার-সহ চিকিৎসার সব প্রধান বিভাগই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এবছর ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ২০,১৪৯টি জনঔষধি কেন্দ্র রয়েছে।
২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬, এই পাঁচ অর্থবর্ষে দেশের জনঔষধি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে পিএমবিজেপি-র অধীনে ৭,৮৭৩.৮৫ কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়েছে। এর ফলে, সাধারণ মানুষের প্রায় ৩৭,২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে (৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত)।
চিকিৎসার জন্য সুলভ ওষুধ ও নির্ভরযোগ্য ইমপ্ল্যান্ট: অমৃত ফার্মেসি
অ্যাফোর্ডেবল মেডিসিনস অ্যান্ড রিলায়েবল ইমপ্ল্যান্টস ফর ট্রিটমেন্ট (অমৃত)-এর লক্ষ্য ক্যানসার, হৃদরোগ এবং অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতার ওষুধ সুলভ মূল্যে পাওয়া নিশ্চিত করা।
এই উদ্যোগে ৬,৫০০-রও বেশি ওষুধ, ইমপ্ল্যান্ট, শল্যচিকিৎসার সামগ্রী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা-সংক্রান্ত পণ্য সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের উপর গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পাওয়া যায়। দেশের ২৪টি রাজ্য এবং চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২৮৫টি অমৃত কেন্দ্র কার্যকর রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অমৃত কর্মসূচি ৮.১৩ কোটিরও বেশি রোগীকে পরিষেবা দিয়েছে।
এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যে প্রায় ২২,৩২৩ কোটি টাকার ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা-সংক্রান্ত পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে রোগীদের প্রায় ১০,৯৬৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে এবং নিজস্ব খরচে চিকিৎসার বোঝা কমেছে (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)।
ক্যানসার চিকিৎসায় টেলি-পরামর্শ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে ই-সঞ্জীবনী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টেলি-পরামর্শ পরিষেবা দেওয়া হয়। বিশেষত, প্রত্যন্ত ও পরিষেবা-বঞ্চিত অঞ্চলের মানুষের কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ক্যানসারের চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শও রয়েছে। এবছর ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যানসার চিকিৎসা-সহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এই পরিষেবা ব্যবহার করেছেন।
ক্যানসারের চিকিৎসা আরও সুলভ ও সহজলভ্য করা
বাণিজ্যিক মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের এই পদক্ষেপ ক্যানসার চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায়ে সরকারের চলতি সহায়তাকে আরও প্রসারিত করেছে। আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে ক্যানসার পরীক্ষা, কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ, এবি-পিএমজেএওয়াই-এর অধীনে নগদবিহীন হাসপাতাল চিকিৎসা এবং জনঔষধি কেন্দ্র ও অমৃত ফার্মেসিতে সুলভ মূল্যে ওষুধ, এই ধরণের উদ্যোগের সম্মিলিত লক্ষ্য গুণমানসম্পন্ন ক্যানসার চিকিৎসা আরও বেশি পরিবারের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। মানুষের বসবাসের কাছাকাছি এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তথ্যসূত্র
Ministry of Chemicals and Fertilizers
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2321092®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2324743
https://nppa.gov.in/storage/uploads/tender/277271-17-10-2026.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2297568®=3&lang=1
https://nppa.gov.in/storage/uploads/pdf/DPCO-inclusive-of-all-ammendmentscompressedpdf-6f9edc1bf7c000eb02b7eee6c180b527.pdf
https://nppa.gov.in/en/search_medicine_price
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2329698
https://nppa.gov.in/storage/uploads/tender/revised-mrp-report-04112026-04-11-2026.pdf
https://x.com/nppa_india/status/2117986916121628974
https://x.com/Pharmadept/status/2117305360692466164
Ministry of Health and Family Welfare
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1858931®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2286948®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2294278
https://dashboard.nha.gov.in/public/
https://sansad.in/getFile/lsapps/loksabhaquestions/annex/188/AU931_DhFQWt.pdf
https://elibrary.sansad.in/server/api/core/bitstreams/b3b40e24-2357-43ce-b2ec-89a9d548f521/view
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2309109®=3&lang=1
https://esanjeevani.mohfw.gov.in/
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2314433®=48&lang=2
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=150834®=5&lang=1
Click to see pdf
**
SSS/S Saha
(तथ्य सामग्री आईडी: 151171)
आगंतुक पटल : 2
Provide suggestions / comments