মৎস্য ও পশু পালন এবং দুগ্ধশিল্প মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

হিমাচল প্রদেশে সুস্থায়ী জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশীয় হিমালয় পর্বতকেন্দ্রিক মাছ রক্ষায় ICAR-CIFRI-এর উৎসাহ প্রদান

প্রকাশিত: 05 OCT 2026 2:54PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

 

ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অন্তর্দেশীয় মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্যারাকপুরের ICAR-CIFRI-র  উদ্যোগে আজ হিমাচল প্রদেশের লাহৌল ও স্পিতি জেলার উদয়পুরে ‘জীবিকা উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশীয় মাছের চাষ’ বিষয়ে একটি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। চন্দ্রভাগা নদীর তীরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেশীয় মাছের সম্পদ সংরক্ষণ এবং জীবিকা উন্নয়নে সুস্থায়ী মৎস্যচাষের সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

চন্দ্রভাগা নদীর তীরে অবস্থিত উদয়পুর হিমালয়ের এক অনন্য ভূদৃশ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এখানকার জলজ জীববৈচিত্র্য, দুর্বল নদী-বাস্তুতন্ত্র এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার আকাঙ্ক্ষা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশীয় মাছ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে স্থানীয় অংশীদারদের সচেতন করার পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত মৎস্যচাষ ও জলজ প্রাণী পালনের বিষয়ে এই কর্মসূচিতে আলোচনা করা হয়।

কর্মসূচিতে ICAR-CIFRI-এর প্রধান বিজ্ঞানী ড. এ কে সাহু চন্দ্রভাগা নদীর দেশীয় মাছের পরিবেশগত ও জীবিকা-সংক্রান্ত গুরুত্ব তুলে ধরেন তাঁর আলোচনায়। হিমালয় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই মাছের সংরক্ষণ ও সুস্থায়ী ব্যবস্থাপনার উপর তিনি জোর দেন। দেশীয় ট্রাউট মাছের প্রজনন, হ্যাচারি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের প্রযুক্তির উপরও তিনি গুরুত্ব দেন। মাছের সংখ্যা কমে যাওয়া নদীর অংশগুলিতে নদীতে মাছের পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা মাছের সংখ্যার পুনরুদ্ধার এবং সুস্থায়ী জীবিকা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক বলেও তিনি তাঁর মত জানান।

প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY), মৎস্য ও জলজ প্রাণী চাষ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (FIDF) এবং প্রধানমন্ত্রী মৎস্য কিষান সমৃদ্ধি সহ-যোজনা (PM-MKSSY)-সহ কেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের আওতায় থাকা সুযোগ সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের জানানো হয়।

ICAR-CIFRI-এর বিজ্ঞানী ড. রোশিথ সি. এম. গুরুত্বপূর্ণ মাছের আবাসস্থল চিহ্নিত করা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করেন। ক্ষতিকর মৎস্য আহরণ পদ্ধতির ফলে পরিবেশের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়ে, সে বিষয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। নদী-নির্ভর মৎস্যসম্পদের দায়িত্বশীল ও সুস্থায়ী ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর-ও তিনি জোর দেন।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ICAR-CIFRI-এর অধিকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন, “হিমালয়ের নদীগুলি দেশীয় জলজ জীববৈচিত্র্যের অমূল্য ভাণ্ডার। সুস্থায়ী জীবিকা এবং স্থিতিস্থাপক গ্রামীণ অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনাও এই নদীগুলিতে রয়েছে। দেশীয় মাছের সম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে জীবিকা উন্নয়ন, পরিবেশগত পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছের চাষ, মাছের আবাসস্থল সংরক্ষণ, নদীতে মাছের পোনা ছাড়া এবং ‘ব্লু রেভলিউশন’-এর আওতায় সরকারি উদ্যোগগুলির সমন্বয়ের মাধ্যমে ICAR-CIFRI প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি ও জ্ঞান পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম এবং সুস্থায়ী জলজ জীবিকার ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে নীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে যাবে। সুস্থ নদী, বর্ধনশীল জলজ জীববৈচিত্র্য এবং সমৃদ্ধশালী মৎস্যজীবী-নির্ভর সমাজ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

হিমালয় অঞ্চলে ICAR-CIFRI-এর জনসংযোগমূলক উদ্যোগ হিসেবে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, সুস্থায়ী জলজ প্রাণী চাষ এবং জীবিকা উন্নয়নের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সদর্থক বার্তা। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, সুস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মৎস্য উন্নয়নে ICAR-CIFRI-এর দায়বদ্ধতাকেও এই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করেছে।

ICAR-CIFRI-এর এই কর্মসূচির সমন্বয় করেন প্রধান বিজ্ঞানী ড. এ কে সাহু, বিজ্ঞানী ড. রোশিথ সি. এম. এবং সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট শ্রী কৌশিক মণ্ডল। তাঁদের নেতৃত্ব দেন ICAR-CIFRI-এর অধিকর্তা ড. প্রদীপ দে।
 

*******

SSS/S Saha/Kol/5.10.26


(রিলিজ আইডি: 2319209) ভিজিটরের কাউন্টার : 11
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English